ভ্যালেন্টাইন্স ডে এর উৎপত্তি এবং গুরুত্ব । ভালবাসা দিবসের ইতিহাস

 ভ্যালেন্টাইন্স ডে এর উৎপত্তি  এবং গুরুত্ব
জে, ফিরদৌস আইরিন

প্রাচীন রোম 14Feb, রোমান দেব-দেবী রাণী জুনোর সম্মাণে ছুটির দিন হিসাবে পালন করে থাকেন। প্রেমের দেবী হিসাবে লোকে মনে করতেন তাই পালিত হয় 14feb, এটা একটা গল্প।

       আরও  একটা গল্প বসন্তের আগমনে পাখিদের মধ্যে  একটা প্রজন্ম বা বংশ বিস্তারের মিলনক্ষন প্রাকৃতিক ভাবে আসে। মাঘের শেষ আর ফাল্গুনের প্রথম সপ্তাহে  অর্থাৎ পয়লা ফাগুন  তাই নিদিষ্ট দিন  14ই ফেব্রুয়ারি,  ইত্যাদি।

         আরো একটা গল্প প্রায় প্রচলন আছে আজ থেকে 250খ্রী: রোমান রাজা তিনি সমগ্র দেশের একটা সমীক্ষার আয়জন করেন, পুরুষদের মধ্যে কারা বেশি শক্তি শালী, তাতে নাকি অবিবাহিত পুরুষের নাম উঠে আসে। হিংসাত্মক মানসিক সম্রাট ক্লডিয়াস তখনি ঘোষণা করেন বিয়ে প্রথা নিষিদ্ধ। এমনকি কোনো ছেলে মেয়ে নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ হবেন না। কঠিন  একটা অবাস্তব কথা, যেটা  ধ্বংস  আনবে গোটা মানব সমাজের। কতটা ক্ষতি হবে। এই কথা শুনলেন একজন মঠের প্রাদ্রি

বা ধর্মজাযক। তিনি ঘোর বিরোধী হয়ে যুবকদের এইপ্রথা মানতে নিষেধ করলেন। সম্রাট ক্লডিয়াসের আত্মসম্মানে লাগলে যুবক কে কারা বন্দি করেন এবং শাস্তি স্বরূপ তার যোগাযোগের সমস্ত পথ বন্ধ করেন।

         একদিন সেই জেলের জেল রক্ষী তার সঙ্গে গল্প করেন তার একটি অন্ধমেয়ে আছে। সেই প্রাদ্রি যেন তার চিকিৎসার পরামর্শ দেন এবং  ঈশ্বরের কাছে তার চোখের জন্য প্রার্থনা করেন। তাই যুবক করলেন এবং মেয়েটি চোখ ফিরে পেলেন। তার এত বড় উপকার যে করেছেন তাকে দেখতে কারাগারে এলে একে অপরের প্রেম বা ভালোবাসার সৃষ্টি হয়।

একদিন এই কথা জনমানব কুলে প্রচার হয়ে গেলে

সম্রাট হিংস্র হয়ে যুবকের মাথা ছেদের ঘোষণা করেন শেষ সুযোগ তাকে দেন এটা বলে যে প্রেম বা প্রণয় অবৈধ  এবং বিয়ে কেও করবেনা। যুবক তার শাস্তি গ্রহন করলেন কিন্তু মানব কুলের যে প্রণয় দরকার তার জীবন উপহার হিসাবে তিনি উৎসর্গ করে দিলেন ঠিক  এই 14ই ফেব্রুয়ারি প্রকাশে তার শিরছেদ্দ করে।

মৃত্যুর  কয়েক ঘন্টা আগে তার প্রিয়তম কে একটা ছোট্ট চিরকুটে লিখেছিলেন সেই সাহসী যুবক

             " From Your Valentine "

তার মৃত্যুর পর মেয়েটি চিরকুটের মধ্যে প্রথম বসন্তের হলুদ এৌকস নামের ফুলের আশ্চর্য সুন্দর রং দেখতে পান। কারণ তিনি অন্ধছিলেন। তাদের না পাওয়ার ব‍্যথাতুর ক্ষনকে চিরন্তন করে রাখার জন্য 14 ফেব্রুয়ারি দিনটাকে ভালবাসা দিন হিসাবে  পালন করা হয়। এইজন্যই নাম করণ ভ‍্যালেন্টাইন্স ডে। কত বড় মন হলে এমন শাস্তি  একটা মানুষ গ্রহন করতে পারেন। জানিনা এর সত‍্যতা তবু কাহিনি হলেও বেদনা দায়ক। প্রতিটি প্রেমিক যেন এমন রূপ পায় আত্মসম্মানকে রক্ষা বা ধরে রাখে। ফুল চকলেট শুধু নয় সঙ্গে  আত্মবোধ, এবং প্রতিটি প্রিয়তমার সম্মান তার আগলে রাখা একান্ত প্রয়োজন।

এ ভাবেও এই দিনটা ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র পাশ্চাত্যদেশের মধ্যে। আস্তে আস্তে মহাসাগর পেরিয়ে চলে এসেছে আমাদের  উপমহাদেশের মধ্যে। ব‍্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণে, চকলেট, ফুল, কার্ড, অন‍্যান‍্য উপহারসামগ্রী লেনদেন। যাকে ধরাযাই ফ‍্যাশান বা ষ্টাইল।

            আমারও ভালোলাগে ভালোবাসার দিন হিসাবে বলতে ইচ্ছে করে,

             মনটা দিলাম তোমার হাতে

             যত্ন করে রেখো

             হৃদয় মাঝে ছোট্ট করে, আমার ছবিএঁকো,

             স্বপ্ন গুলো দিলাম তাতে, আর দিলামআশা, মনের মতো সাজিয়ে নিও

আমার ভালোবাসা।

একশো বছর পরেও যদি জানতে চাও

সেদিন বলবো তোমাকেই ভালোবাসি।

শুধু কাছে পাওয়ার জন্য ভালোবাসা নয়,

শুধু ভালোলাগার জন্য ভালোবাসা নয়,

নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে ভালোবাসার

মানুষকে সুখী রাখার নামই ভালো বাসা।

শুভহোক প্রতিটি ভালোবাসা। প্রতিটা জিনিসের পিছনে বড় একটা কিন্তু লুকিয়ে থাকে।

                      শুভেচ্ছা  আন্তরিক  অভিনন্দন।

নদীয়া, প:বঙ্গ, ভারত

Post a Comment